জিটুজি চুক্তির আওতায় বিশ্বের সাতটি দেশ থেকে ১৪ লাখ ২৫ হাজার টন জ্বালানি তেল কিনতে যাচ্ছে অন্তর্র্বতী সরকার।দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে এসব জ্বালানি তেল আনা হবে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বিভিন্ন দেশের সাত প্রতিষ্ঠান থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, থাইল্যান্ডের ওকিউটি, মালয়েশিয়ার পিটিএলসিএল এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি।

এ ছাড়া বৈঠকে ৭ লাখ টন মারবান গ্রেডের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি থেকে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সৌদি আরামকো থেকে ৮ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট গ্রেডের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৩২০ কোটি টাকা।

পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। চার প্রস্তাবই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি এ তেল সরবরাহ করবে। প্রতি লিটার তেল ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা দরে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় হবে ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

আসন্ন রোজায় ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এ তেল আমদানি করা হচ্ছে।